বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ই নভেম্বর ২০২২ রাত ১০:১৭
৩৩১
বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ১৯৭০ সালের ভয়াল ১২ নভেম্বর নিহতদের স্মরণে ভোলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘শোক থেকে শক্তি’ এ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আজ শনিবার (১২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভোলা শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসন ও সিপিপির আয়োজনে প্রথমবারের মত এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) পরিচালক (অপারেশন) মো. নূর ইসলামের ব্যবস্থাপনায় সিপিপি নিজস্ব বাউল শিল্পী সুমন বাউল ও কাকলী পারভীনের পরিবেশনায় পালাগান অনুষ্ঠিত হয়। পালাগানে ভয়াল ১২ নভেম্বরের বর্ণনা ও ঘুর্ণিঝড় থেকে রক্ষায় কি কি করতে হবে তা উপস্থাপন করেন শিল্পীরা।
সমাবেশে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিপি) শিখা সরকার।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিবেক সরকার, ভোলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম খলিল, ভোলা প্রেসক্লাব সভাপতি এম হাবিবুর রহমান, ভোলা পৌরসভার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন মিয়া, প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ তাহের, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, ভোলা জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, চরফ্যাশন উপজেলা সিপিপির টিম লিডার মো. জসিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বলেন, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়ে ভোলাসহ দেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হাড়িয়েছে। কিন্তু তৎকালীন সরকার দুর্যোগ মোকাবেলায় তেমন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাই দেশ স্বাধীনের পর পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে দেশে সিপিবি প্রতিষ্ঠা করেন। সিপিবি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা আজকে সারা বিশে^ প্রসংশিত। ১২ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভোলায় একটি আর্কাইভ করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধান অতিথি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: তৌফিক ই-লাহী চৌধুরী বলেন, ভয়াল ১২ নভেম্বর প্রলঙ্করী ঘুর্ণিঝড়ের ৫২ বছর পর ভোলায় ভয়াল ১২ নভেম্বর নিয়ে সরকারি ভাবে এই প্রথম অনুষ্ঠান হলো। আমার আশা করছি যে আমার সময় থেকে চালু হওয়া এ অনুষ্ঠানের ধারা অব্যাহত থাকেব। এই বছর ও সাইক্লোনের সময় আমরা ব্যাপক পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহগণ করেছিলিাম যার কারনে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। যেহেতু ভোলা উপক‚লীয় এলাকা তাই দুর্যোগ কালীন সময়ের জন্য রেডক্রিসেন্ট সহ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে।
তৎকালিন “পূর্ব দেশ” পত্রিকার ভোলার সাংবাদিক ও বর্তমান ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, বাংলার কণ্ঠের সম্পাদক এম. হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি ১২ নভেম্বর ঝড়ের পরে সকালে ভোলার শিবপুর এলাকায় গিয়ে দেখেন, অসংখ্য লাশ রাস্তা পুকুর পাড়ে পরে রয়েছে। মেঘনা নদী ছিলো যেন লাশের মিছিল। গাছে গাছে ঝুলে আছে লাশ ¯েœহময়ী মা তার কোলে শিশু সন্তান দেখে তখন তিনি ছবি তুলেন। এর পর পুলিশ ওয়ারলেসের সহযোগীতায় ঢাকায় পত্রিকা অফিসে নিউজ প্রেরণ করেন। আর ছবি মাছধরা ট্রলারে করে দুই দিন আগে ঢাকায় পাঠান। তার পরেই পূর্বদেশ পত্রিকায় ছাপা হয় ব্যানার হেডে কাদোঁ বাঙ্গালী কাদোঁ, ভোলার গাছে গাছে ঝুলছে লাশ। প্রলয়ঙ্কারী সেই বিভৎস ঝড়ের তান্ডবের খবর ঘটনার ৪ দিন পর তখন “পূর্ব দেশ” পত্রিকার প্রকাশ হলে দেশবাসীসহ বিশ্ববাসী জানতে পারে। তিনি আরো বলেন, ভয়াল ১২ নভেম্বর এর সময় বর্তমান ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ ৭০ এর নির্বাচনে এম এল প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ভোলা মহকুমার দৌলতখান ও তজুমদ্দিন নির্বাচনী প্রচারে ভোলায় অবস্থান করেছিলেন। ঘূর্ণিঝড়ের পরের দিন তিনি বন্যা কবলিত রতনপুর বাজারে যান এবং মৃতদের দাফনের ব্যবস্থা করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন তৎকালীন ভোলা মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুদ্দিন আহমেদ, মাওলানা মন্তাজ করিম, মোখলেছুর রহমানসহ অন্যান্যরা। এর পর তোফায়েল আহমেদ ভোলার অবস্থা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুকে জানালে তিনি ভোলায় আসেন। তোফায়েল আহমেদকে সাথে সাথে নিয়ে হাবিব তালুকদার এর লঞ্চ যোগে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে এবং দুর্গতদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন।
সমাবেশে ১৯৭০ সালের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সেদিন ঝড়ে নিহদের স্মরনে আজকে এ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক সমাবেশ। যদিও সেদিনকার ঝড়ে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। এর পরও অনেক ঘুর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানলেও যথাযথা পদেক্ষেপের কারনে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমেছে। মৃত্যু আজ একক সংখ্যায় নেমে এসেছে। ঘুর্ণিঝড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি হবে। কিন্তু যথাযথা পদেক্ষেপ ও সচেতনতার কারনে এর ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে বিশেষ অবদান রাখায় সিপিপির ৬জন প্রবীণ স্বেচ্ছাসেবককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরা হলেন দৌলতখানে মো. নেজামল হক, বোরহানউদ্দিনে আবুল কালাম মিয়া, চরফ্যাশনে ছাবের আহমেদ, তজুমদ্দিনে অভিনাস চন্দ্র দে, লালমোহনে মো. ইমাম হোসেন ও মনপুরায় দিলীপ কুমার মজুমদার। অনুষ্ঠানে ভোলার জেলার বিভিন্ন উপজেলার সিপিপি সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিকেল ৩টায় সমাবেশ স্থলে সিপিপি পরিচালিত বহুমাত্রিক দুর্যোগ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
লালমোহনে দুদক এর উদ্যোগে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ভোলার ‘৭০ ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে “অস্তিত্বের লড়াই”
আনসার-ভিডিপি সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশের মানুষ কখনো জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল
১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা করার প্রস্তাব
ইসির কাছে প্রার্থীদের আর্থিক তথ্য চাইল সুজন
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতায় টাইগারদের অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর
দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির
ভোলায় নানা আয়োজনে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক