অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৪শে অক্টোবর ২০২৬ | ৮ই কার্তিক ১৪৩৩


তীব্র গরমে লক্কড়-ঝক্কড় বাসে যাত্রীদের হাঁসফাঁস


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১শে এপ্রিল ২০২৪ সন্ধ্যা ০৬:০৩

remove_red_eye

৩০৩

‘ওস্তাদ, আল্লাহর দোহায় লাগে। আর খাঁড়াইয়েন না। একটু টাইনা যান। আর ১০টা মিনিট ভেতরে থাকলে সিদ্ধ হইয়া যামু।’ এ আকুতি বাসচালককে উদ্দেশ্য করে এক যাত্রীর। তীব্র গরমে ভরদুপুরে রাজধানীর উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী রুটে চলাচল করা রাইদা পরিবহনের একটি বাসের পেছনের দিকের সিট থেকে ভেসে আসে এমন আকুতি।

আনারুল ইসলাম নামের ওই যাত্রী পেশায় মুদি দোকানি। বয়স ৩৫-৩৬ বছর হবে। রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যাচ্ছিলেন কাকরাইলে। বাসে উঠেছেন খিলক্ষেত থেকে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসে উঠেছেন। ১২টার দিকে তার বাস শাহজাদপুরে দাঁড়িয়ে। অর্থাৎ, আধাঘণ্টায় মাত্র ছয় কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়েছেন তিনি। তাকে যেতে হবে আরও ৯-১০ কিলোমিটার।

বাসে বসেই এ যাত্রী বলেন, ‘এ টিনের বাক্সের (বাস) ভেতরে প্রচণ্ড গরম ভাই। দেখেন—পেছনের দিকের দুটি ফ্যানই নষ্ট। যাত্রীদের চাপাচাপিতে সিটে বসেও আমার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। রাস্তা ফাঁকা, তবুও অযথা থেমে থেমে গাড়ি চালাচ্ছেন ড্রাইভার। প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে বলেই তাগাদা দিলাম।’

তীব্র গরমে লক্কড়-ঝক্কড় বাসে যাত্রীদের হাঁসফাঁস

শুধু আনারুল নন, তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ঢাকার গণপরিবহনে চলাচল করা অধিকাংশ যাত্রীই নিদারুণ কষ্টে চলাফেরা করছেন। যানজট, গণপরিবহনের বেহাল দশা, এক সিট থেকে অন্য সিটের কম দূরত্ব, গাদাগাদি করে যাত্রী তোলায় দুর্ভোগ বেড়েছে গণপরিবহনের যাত্রীদের। নারী, শিশু ও বয়স্করা রীতিমতো ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকার কয়েকটি রুটের সড়কে ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ বাসই লক্কড়-ঝক্কড়। কোনো কোনো বাসের ওপরের ছাদও ভাঙাচোরা, যা দিয়ে সহজেই ভেতরে তীব্র রোদ ঢুকছে। অনেক বাসে নেই ফ্যানও। যেসব বাসে ফ্যান আছে, সেখানেও একটি চালু তো অন্যটি অকেজো। এছাড়া ৩৬ সিট হিসেবে অনুমোদন নেওয়া বাসগুলোতে ৪২-৪৫টি আসন বসিয়ে চলাচল করায় বসে যাতায়াত করেও স্বস্তি পাচ্ছেন না যাত্রীরা।

মিরপুর থেকে আগারগাঁও রুটে চলাচল করা বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে উঠে দেখা যায়, বাসটিতে কোনো ফ্যান নেই। বাসের সামনের ও পেছনের দিকে দুই জায়গায় ছাদ খোলা। তা দিয়ে ভেতরে তীব্র রোদ এসে পড়ছে যাত্রীদের গায়ে। বাসে যাত্রী কম থাকলেও সবাই অস্বস্তিতে।

তীব্র গরমে লক্কড়-ঝক্কড় বাসে যাত্রীদের হাঁসফাঁস

বাসটির দুজন যাত্রী জানান, বহুকাল ধরেই বিহঙ্গ পরিবহনের এমন দশা। লক্কড়-ঝক্কড় হয়ে চলছে। রাস্তায় চলাচল করতে হয় বলে বাধ্য হয়েই তারা ওঠেন। সরকার বাসগুলোর দিকে নজর দেবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

বিহঙ্গ পরিবহনের বাসটির চালক ও সহকারী জানান, মালিক তাদের বাস দিয়েছেন। প্রতিদিন ভাড়া মারেন। হিসাব বুঝিয়ে দিলে মালিক তাদের পাওনা দেন। বাস মেরামত করার দায়িত্ব মালিকের। মালিক সেটি না করলে বাস যেমন আছে, তাদের তেমনই চালাতে হবে।

এদিন তুরাগ, সাভার পরিবহন, ঠিকানা, ইতিহাস, আসমানী, অনাবিল, রাজধানী, অগ্রদূত, আকাশ, ভিক্টর ক্ল্যাসিক, আল-মক্কা ও রবরব পরিবহনের একাধিক বাসে ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। রবরব পরিবহনের বাসের যাত্রী শামসুদ্দিন। তিনি রাজধানীর তিতুমীর সরকারি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

তীব্র গরমে লক্কড়-ঝক্কড় বাসে যাত্রীদের হাঁসফাঁস

শামসুদ্দিন বলেন, ‘একটা দেশের রাজধানীতে চলাচল করা বাস এত লক্কড়-ঝক্কড় হতে পারে, তা কল্পনাতীত। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে নানা ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করছি। অথচ আমাদের নগরবাসীরা কীভাবে চলাচল করছেন, তা নিয়ে সরকারের ভ্রুক্ষেপ নেই।’

দেড় বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে আল-মক্কা বাসে উঠেছেন শারমিন নিপা। সামনের দিকে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসেছেন তিনি। তার পেছনে থাকা জানালার একটি গ্লাসও খোলা যাচ্ছে না। কোনো আলো-বাতাসও বাসে ঢুকছে না। চালকের মাথার ওপরে একটি ফ্যান থাকলেও সেই বাতাস ওই নারী ও তার শিশুসন্তানের শরীরে লাগছে না। গরমে ঘামতে থাকা শিশুটিকে বারবার কেঁদে উঠতে দেখা যাচ্ছিল।

জানতে চাইলে শারমিন নিপা বলেন, ‘জানালাটা খুলে দিলেও একটু বাতাস আসা-যাওয়া করতো। কিন্তু জানালার গ্লাস খোলা যাচ্ছে না। ফ্যানও তো নেই। ইঞ্জিনের গরমে মেয়েটাকে নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

যাত্রীদের কষ্ট হলেও চালক-হেলপারদের কিছুই করার নেই বলে জানালেন আল-মক্কা পরিবহনের চালক শফিকুল ইসলাম। ১০ ট্যাকা ভাড়া দিয়ে বাসে আর কত সুবিধা নিতে চান- বলে উল্টো প্রশ্ন তোলেন তিনি।

যাত্রীরা সঙ্গে সঙ্গে চালক শফিকুলের এ প্রশ্নের প্রতিবাদ করেন। চালকের সঙ্গে যাত্রীদের কিছুক্ষণ চলে বাগবিতণ্ডাও। এরপর শফিকুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘এইডা (গাড়ি মেরামত ও ফ্যান লাগানো) আমাগো কাজ না ওস্তাদ। মালিক করলে ভালো, না করলেও কিছুই কওনের নাই।’

তীব্র গরমে লক্কড়-ঝক্কড় বাসে যাত্রীদের হাঁসফাঁস

ঢাকায় চলাচল করা বাসগুলো মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সাধারণ মালিকদের দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সামদানী খন্দকার।

তিনি বলেন, ‘মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্যাহর সই করা চিঠি অন্তত ২৪-২৫ বার সাধারণ মালিকদের আমরা দিয়েছি। মিটিংগুলোতেও তাগাদা দেওয়া হয়। আমরা মালিকদের বলেছি, বাসগুলো মেরামত করতে হবে। সৌন্দর্য বাড়াতে হবে। যখন মেরামত করা হবে, সৌন্দর্য বাড়বে; তখন কিন্তু যাত্রীরা চলাচলে স্বস্তি পাবেন। সে লক্ষ্যে মালিক সমিতি কাজ করে যাচ্ছে।’

মালিক সমিতি দফায় দফায় চিঠি দিলেও বাস মেরামত হয় না কেন, এমন প্রশ্নে সামদানী খন্দকার বলেন, ‘এটি আসলে চলমান প্রক্রিয়া। কিছু বাস মেরামত করা হয়। সেগুলো রোডে নামালে আবার কিছুদিন পর লক্কড়-ঝক্কড় চেহারা হয়ে যায়।’

 





গণতন্ত্র নেই- আওয়ামী লীগ নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করেছে: তথ্য মন্ত্রী পার্থ

গণতন্ত্র নেই- আওয়ামী লীগ নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করেছে: তথ্য মন্ত্রী পার্থ

আগামী ১০ বছরেরও শেখ হাসিনা ফেরার সম্ভবনা নেই : ভোলায় স্পিকার

আগামী ১০ বছরেরও শেখ হাসিনা ফেরার সম্ভবনা নেই : ভোলায় স্পিকার

ভোলায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১৩৫ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান

ভোলায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১৩৫ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান

মনপুরায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে বিদ্যুৎ অফিসে ব্যবসায়ীদের অবস্থান

মনপুরায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে বিদ্যুৎ অফিসে ব্যবসায়ীদের অবস্থান

৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আ.লীগ ও একটি ‘গুপ্ত’ দল যৌথভাবে চক্রান্ত করছে: রিজভী

আ.লীগ ও একটি ‘গুপ্ত’ দল যৌথভাবে চক্রান্ত করছে: রিজভী

এসএসসিতে ফেল করেও কলেজে ভর্তির সুযোগ চান শিক্ষার্থীরা

এসএসসিতে ফেল করেও কলেজে ভর্তির সুযোগ চান শিক্ষার্থীরা

ফ্রান্স বিক্ষোভ, ভারতের আন্দোলন ‘একসূত্রে গাঁথা’

ফ্রান্স বিক্ষোভ, ভারতের আন্দোলন ‘একসূত্রে গাঁথা’

বিশ্বজুড়ে সাইবার সতর্কতা, বন্ধ বহু সাইট

বিশ্বজুড়ে সাইবার সতর্কতা, বন্ধ বহু সাইট

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন আমরা সংশোধনের চেষ্টা করছি : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন আমরা সংশোধনের চেষ্টা করছি : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

আরও...