অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | ২২শে চৈত্র ১৪৩২


ভোলায় ডিজেল সংকটে ব্যবসায়ীদের পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা


মো: ইয়ামিন

প্রকাশিত: ৫ই এপ্রিল ২০২৬ সকাল ০৭:৪৮

remove_red_eye

৪৫

মোঃ ইয়ামিন : ভোলায় ডিজেল সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিলস ও মেসার্স জে.কে ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. জামাল উদ্দিন খান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিলস-এর সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামাল উদ্দিন খান বলেন, গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তার প্রতিষ্ঠানে মজুদকৃত ডিজেল প্রায় শেষ হয়ে আসে এবং ৩ এপ্রিল কিছু অবশিষ্ট জ্বালানি ব্যবহার করে ভোলা সদর ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের কাছে সীমিত পরিসরে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। তবে বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে কোনো ডিজেল মজুদ নেই, ফলে উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রম বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ভোলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ও স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল পাওয়া যায়নি। অথচ এর আগে স্থানীয় ডিলারদের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ডিজেল সরবরাহ পাওয়া যেত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জামাল উদ্দিন খানের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের কাজে ৮টি যানবাহন, যার মধ্যে ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলার রয়েছে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। এসব পরিবহন সচল রাখতে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। উৎপাদিত পণ্য শুধু ভোলা সদর বা জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেই নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের আরও বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। ফলে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তার দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাদের পরিবার-পরিজনসহ প্রায় এক হাজার মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বহু পরিবারের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
তিনি বলেন, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহেও বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে এর প্রভাব বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ওপর পড়তে পারে। তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

মোঃ ইয়ামিন