অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ৩১শে আগস্ট ২০২৬ | ১৬ই ভাদ্র ১৪৩৩


এদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচারকে সমর্থন করেনি: স্পিকার


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১শে আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:০৮

remove_red_eye

৪৬

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, এদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচারকে সমর্থন করেনি, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে থেকেছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রকামী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ আত্মোৎসর্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। দেশের মানুষ কখনই স্বৈরাচারকে সমর্থন করেনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় লাভ হলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হলেও গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে এদেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়। মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান দেশের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল প্রহসনের নির্বাচন। এসব নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে স্বৈরাচারের অবসান ঘটে।স্পিকার বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল দেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। 
আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। গণতান্ত্রিক সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও গণতান্ত্রিক সংসদ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘের অধীন সংস্থা ও সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের কার্যকর ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। 
এ সময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপিসহ আইপিইউ প্রতিনিধি দলের সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।