অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩শে ভাদ্র ১৪৩৩


ভোলায় হেলিপ্যাড ক্লাব মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন আলগী স্পোর্টিং ক্লাব


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ০৯:৪৪

remove_red_eye

৩৮

বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় হেলিপ্যাড ক্লাব আয়োজিত মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে ইব্রাহিম স্পোর্টিং ক্লাবকে টাইব্রেকারে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে আলগী স্পোর্টিং ক্লাব।
রোববার বিকেলে ভোলা গজনবী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে ভিড় করেন হাজারো দর্শক। নির্ধারিত একঘন্টা সময়ে খেলায় কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে আলগী স্পোর্টিং ক্লাব।
তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী দিক ছিল চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কার। প্রচলিত ট্রফির পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন আলগী স্পোর্টিং ক্লাবকে একটি খাসি ছাগল উপহার দেয় আয়োজক কমিটি। ব্যতিক্রমী এই পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও বিষয়টি ব্যাপক কৌতূহল ও আনন্দের সৃষ্টি করে।
ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন ভোলা জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার। তিনি ফাইনালে অংশ নেওয়া দুই দলের জন্য বিশেষ প্রাইজবন্ড দেওয়ার ঘোষণা দেন।
আয়োজকরা জানান, গত ১৪ আগস্ট ১৩টি দল নিয়ে শুরু হয় এই মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট। ধারাবাহিক কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় আলগী স্পোর্টিং ক্লাব ও ইব্রাহিম স্পোর্টিং ক্লাব।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। বর্তমানে তরুণদের একটি অংশ মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন তরুণদের মাঠমুখী করার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের স্থানীয় ক্রীড়া আয়োজন শুধু বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে না, বরং নতুন নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রও তৈরি করে। নিয়মিত ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার চর্চার মাধ্যমে ভোলার তরুণদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
অতিথিরা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাঠে ফিরিয়ে এনে একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে ক্রীড়া সংগঠকদের আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে। হেলিপ্যাড ক্লাবের মতো সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক এমন আয়োজন ভোলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বেলাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সোহান সরকার, ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মুনতাসীর আলম চৌধুরী রবিন এবং ভোলা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সাপাতুল ইসলাম, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হামিদা বেগম। 
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তালহা তালুকদার বাঁধন ও সজিব তালুকদার। 
হেলিপ্যাড ক্লাবের আয়োজক আকিল জানান,এই ধরনের টুর্নামেন্ট শেষ করতে পেরে আমরা আয়োজকরা খুবই খুশি। ভবিষ্যতে আমরা এই ধরনের আয়োজন ধারাবাহিকতা করার চেষ্টা করবো। চ্যাম্পিয়ান ট্রফির পাশাপাশি খাসি ছাগল দেওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে চ্যাম্পিয়ান দলকে উৎসাহিত করা। এর ফলে ঐ এলাকার মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পরে।