অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩শে ভাদ্র ১৪৩৩


সংযোগ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেক্টিভিটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য : আইসিটি মন্ত্রী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:১১

remove_red_eye

৪৩

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, সংযোগ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেক্টিভিটিই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি)-এর ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে এবং ১০৮ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক ফোর-জি সেবা ব্যবহার করছেন। দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ফোর-জি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে এআই, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ফাইভ-জি’সহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, এডব্লিউজি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ ওয়্যারলেস প্রযুক্তির প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তিনি এডব্লিউজি-৩৭ এর সফল আয়োজন কামনা করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং টেলিযোগাযোগ সেবা আরও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য শিল্পে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এপিটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশা করি, এই সভার মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. মো. এমদাদ উল বারী। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এডব্লিউজি-৩৭ সভায় বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, উদীয়মান প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা এবং আইনি সীমা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সভায় এসব বিষয়ে আঞ্চলিক সুপারিশ প্রণয়ন ও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।বাংলাদেশে এডব্লিউজি-৩৭ আয়োজন দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।