অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২১শে অক্টোবর ২০২৬ | ৬ই কার্তিক ১৪৩৩


চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১শে অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:৫৭

remove_red_eye

৩৬

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের কবল থেকে মুক্ত হওয়া দেশকে কিভাবে নতুন করে বিনির্মাণ করা যায় এবং তাতে দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা কেমন হবে তার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সভায় প্রধানমন্ত্রী জনগণের আকাঙ্ক্ষা, দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ, দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা এবং আগামী স্থানীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন। 

একই সাথে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের বিষয়েও কথা বলেন।

গত ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে আয়েজিত সাংগঠনিক সভায় মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরীর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টায় রেডিসনে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।

নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাংগঠনিক সভায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলেছে। এখন দায়িত্বে থাকার কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য। নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আমাদের আন্তরিক হতে হবে। শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না, সেগুলো বাস্তবে রূপ দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ কী চায়, তাদের প্রত্যাশা কী এবং কোন সমস্যাগুলো তাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে সেগুলো বুঝতে হবে। জনগণের কথা শুনে তাদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। দলের নেতাকর্মীদের আচরণ এমন হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আপনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা ও সেবা পান।’

তিনি বলেন, ‘এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাই ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারলেই আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সফল হবে।’

নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও নেতাকর্মীদের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সমস্যাগুলো সমাধানে সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। এ সময়ে অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের বাধা ও চাপের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের ত্যাগ ও অবদানকে মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে এবং এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে উল্লেখ করে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে এবং দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং বাস্তবতা বিবেচনায় রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের নেতাকর্মীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো এলাকার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা অন্য দায়িত্বশীল নেতাদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতেই পারে কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করে সবাইকে একটি জায়গায় আসতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কোনো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ থাকলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই সবাইকে এক সঙ্গে বসে নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে।’