অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ | ১১ই কার্তিক ১৪৩৩


ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: মঙ্গলবার রাত থেকে পশ্চিমবঙ্গে দুর্যোগ


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৫:২৭

remove_red_eye

৫৩

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি সোমবার শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

আগামী বুধবার দুপুর নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা উপকূলের কাছে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর।

 

 

ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাত পশ্চিমবঙ্গে না হলেও এর প্রভাবে রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের বাঁকের প্রভাবেই বাংলায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।

মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রের ঢেউ অতি উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে নদী ও উপকূলবর্তী এলাকায় জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে চাষের জমি।

 

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ২৭ অক্টোবর থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাদের সোমবারের মধ্যেই উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওই জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ওই চার জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া চলতে পারে।

শুক্রবার মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমানে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টি হতে পারে।

তবে কলকাতায় ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। শহর ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে মূলত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাতেও পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আবহাওয়ার পরিস্থিতির অবনতি হবে বলে আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অর্ণব’। নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ।