অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২১শে অক্টোবর ২০২৬ | ৬ই কার্তিক ১৪৩৩


স্বামী হারানোর শোক এবং ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় রাশেদা


লালমোহন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ই জানুয়ারী ২০২৫ সন্ধ্যা ০৬:০৯

remove_red_eye

৫২৯

     পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে প্রবাসে গিয়ে মৃত্যু


আকবর জুয়েল, লালমোহন : সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে ধারদেনা করে গত এক বছর আগে ওমানে পাড়ি জমান মোতাহার উদ্দিন। আস্তে আস্তে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু ওমানে হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান মোতাহার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন মোতাহার উদ্দিনের স্ত্রী মোসা. রাশেদা বেগম। সংসার চালানো ও প্রবাসে যেতে স্বামীর করা অন্তত ১১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শেখের দোকান এলাকার জুবন আলী হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন মো. মোতাহার উদ্দিন। গ্রামে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তবে, সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে গত এক বছর আগে ধারদেনা করে পাড়ি জমান ওমানে। সেখানে গিয়ে কমিশনের ভিত্তিতে জেলে পেশায় কাজ শুরু করেন তিনি। এতে করে গড়ে তিনি ৩০ হাজার টাকার মতো উপার্জন করতেন। যা দিয়ে দেনা পরিশোধের পাশাপাশি কোনরকমে চলতো গ্রামে থাকা তার স্ত্রী-সন্তানদের সংসার।
তবে, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ওমানে হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান মোতাহার। এরপর সেখানের সব প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তার মরদেহ ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে অর্থাভাবে ঢাকা থেকে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। পরে আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ১৫ হাজার টাকা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাড় করে বৃহস্পতিবার সকালে ওমান প্রবাসী মোতাহারের মরদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়ি লালমোহনে। এর কিছু সময় পর তার লাশ দাফন করা হয়।
মোতাহার উদ্দিনের স্ত্রী রাশেদা বেগম বলেন, আমাদের সম্পদ বলতে কেবল বসতভিটাটুকুই। আমার স্বামী এলাকায় থাকতে অটোরিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন। তবে এতে করে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। যার জন্য সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে গত এক বছর আগে স্থানীয় মানুষজনসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ করে ওমান যান আমার স্বামী। ওমান যাওয়ার পর জেলে হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানের আয় দিয়ে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি কোনরকমে আমাদের সংসার চলতো। তবে, গত ১৯ ডিসেম্বর আমার স্বামী হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। এরপর সব প্রক্রিয়া শেষে তার লাশ বুধবার (১ জানুয়ারি) ঢাকায় আসে।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা থেকে স্বামীর লাশটি বাড়িতে আনার মতো টাকাও আমাদের কাছে ছিল না। যার জন্য আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের দেওয়া সহযোগিতার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকা থেকে তার লাশটি বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামে আনা হয়। এর কিছু সময় পর তার লাশ দাফন করা হয়। আমার স্বামীর হয়তো হায়াৎ শেষ, যার জন্য তিনি মারা গেছেন। তবে তার রেখে যাওয়া অন্তত ১১ লাখ টাকার মতো ঋণ পরিশোধ নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কারণ আমাদের সম্পদ বলতে কেবল বসতভিটাটুকু। এই ভিটার জমি বিক্রি করলেও এতো টাকা জোগাড় হবে না। আর বসতভিটার জমি বিক্রি করলে থাকবোই বা কই?
রাশেদা বেগম আরো বলেন, এক ছেলে আর দুই মেয়েকে নিয়ে আমাদের সংসার। এরমধ্যে দুই মেয়েকেই বিয়ে দিয়েছি। ছেলে বিয়ে করেছে। সে রাজমিস্ত্রির কাজ করে কিছু টাকা উপার্জন করে। এখন তার বাবা মারা গেছেন, ছেলের ওই সামান্য আয়ে এখন কোনো রকমে সংসার চললেও কোনোভাবেই এতো টাকা ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। তাই আমি সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি। একইসঙ্গে মানবিক কারণে এনজিওর ঋণগুলো মওকুফের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে লালমোহনের ইউএনও মো. শাহ আজিজ বলেন, প্রবাসীরা আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধা। তাই প্রবাসে মারা যাওয়া মোতাহার নামে ওই ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।





আওয়ামী লীগের মতো লুটপাটের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না: স্পিকার

আওয়ামী লীগের মতো লুটপাটের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না: স্পিকার

লালমোহনে ‘স্পিকার মেজর হাফিজ ফুটবল টুর্নামেন্ট'র উদ্বোধন

লালমোহনে ‘স্পিকার মেজর হাফিজ ফুটবল টুর্নামেন্ট'র উদ্বোধন

লালমোহনে নদীতে মাছ শিকারের দায়ে ৪ জেলের জেল

লালমোহনে নদীতে মাছ শিকারের দায়ে ৪ জেলের জেল

ভোলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পার্থের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ

ভোলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পার্থের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ

হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী

হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

এইচএসসি পরীক্ষার ফল হতে পারে ২৯ নভেম্বর

এইচএসসি পরীক্ষার ফল হতে পারে ২৯ নভেম্বর

মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান

মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান

একমাত্র সন্তানের স্ত্রীর অত্যাচারে লালমোহনে ঘরে থাকাই কষ্টসাধ্য বৃদ্ধ মা রোকেয়া বেগমের

একমাত্র সন্তানের স্ত্রীর অত্যাচারে লালমোহনে ঘরে থাকাই কষ্টসাধ্য বৃদ্ধ মা রোকেয়া বেগমের

আরও...