অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই ২০২৬ | ১৩ই শ্রাবণ ১৪৩৩


মনপুরায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়কে ধ্বস


মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮শে জুলাই ২০২৬ রাত ০৯:০৩

remove_red_eye

১৩

মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরায় গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা টেকসই করার লক্ষ্যে দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে সদ্য নির্মাণ করা হয় দুইটি হেরিং বোন ( ইটের সোলিং রাস্তা) সড়ক। কিন্তু নির্মাণের মাসখানেকের মধ্যে সড়ক দুইটি বিভিন্নস্থানে ধ্বসে পড়েছে ইটের সোলিং। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ইট ও বালু ব্যবহারে রাস্তার এই অবস্থা হয়েছে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
 
স্থানীয়রা জানান, কাজ শুরু করার কিছুদিন পরেই রাস্তার ইটের সোলিং ধ্বসে পড়ে। সড়কে নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত ইট ও বালু ব্যবহার করে নাই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে রাস্তায় বিভিন্ন অংশে রাস্তার ইট সরে গিয় গর্তে সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পড়েছেন তারা। 
 
এমনকি রাস্তার ব্যবহৃত ইটের ফাঁকে পা পড়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন পথচারীরা। তারা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ গ্রামীণ সড়ক দুইটি পুনারায় মেরামতের দাবী করেন।
 
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ শত মিটার গ্রামীণ এইচবিবি সড়ক নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ ১ শত ২৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাস্তা দুইটি নির্মাণে কার্যাদেশ পায় মেসার্স ভাই ভাই ট্রের্ডাস।
প্রকল্পের আওতায় ৭ং ওয়ার্ডের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন আবু তাহেরের বাড়ি থেকে পূর্বদিকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ১,০০০ মিটার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামীণ টাওয়ারসংলগ্ন রহিম হাফেজের বাড়ি থেকে পশ্চিমে বেড়িবাঁধ মসজিদ পর্যন্ত ৫০০ মিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণ করা হয়।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সদ্য নির্মিত সড়ক দুটির বিভিন্ন স্থানে ইট দেবে গেছে। এমনকি রাস্তায ব্যবহৃত ইট ভেঙে পড়েছে। আবার কোথাও কোথাও ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
 
এই ব্যাপারে ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ তসলিম জানান, গ্রামীণ সড়কটিতে মাটি ভরাট করে হেরিংবোন ( ইটের সোলিং) করে রাস্তা নির্মাণ করবে ঠিকাদার। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি রাস্তায় মাটির কাজ না করেই হেরিংবোনের কাজ করে। এছাড়াও রাস্তায় নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করায় সড়কটি ধ্বসে পড়েছে। প্রতিদিন স্থানীয়রা এই রাস্তার বিষয়ে অভিযোগ দেন বলে জানান তিনি।
 
এই ব্যাপারে গ্রামীণ সড়ক দুইটি নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স-এর প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি সড়কে মাটি না ফেলে কাজ করার বিষয়টিসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি এড়িয়ে যান।
 
এই ব্যাপারে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন জানন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে তিনি সড়কটি সম্পূর্ণভাবে মেরামত করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।