অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৬শে ভাদ্র ১৪৩৩


মনপুরায় মেঘনা পাড় থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা এক যুবক উদ্ধার পরিকল্পিতভাবে হত্যার দাবী স্বজনদের


মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০:৫৩

remove_red_eye

৪৪

মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীর পাড় থেকে রসি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা এক যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে স্থানীয়রা। তবে এই ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে দাবী জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া যুবকের স্বজনরা।
বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারে পূর্বপাশের মেঘনা পাড় থেকে ওই যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরে বৃহস্পিতবার ভোর রাত ৪ টায় অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া যুবক হলেন, মোঃ শান্ত (২৫)। তিনি উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে লিটন মাঝি কয়েকজন জেলে নিয়ে মেঘনায় মাছ শিকার করে নৌকা নিয়ে নদীর তীরে নোঙ্গর করেন। এই সময় তিনি মানুষের গোঙ্গানির শব্দ পেয় টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে খুঁজতে থাকেন। পরে তিনি নদীর পাড়ে খুঁটির সাথে রসি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় কাঁদা মাখানো একজনে দেখতে পায়। পরে তিনিসহ অন্যান্যরা মুখ ও হাত-পায়ের রসি কেটে উদ্ধার করেন ও চিনে ফেলেন। তখন স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া যুবকের অবস্থা অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধারকারী লিটন মাঝি জানান, নদীরপাড়ে গোঙানির শব্দ শুনে টর্চ লাইট মেরে দেখি রসি দিয়ে মুখ ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কাদা মাখানো একজন পড়ে আছে। পরে সকল হাত-পা ও মুখে বাধানো রসি কেটে দেখি পরিচিত যুবক শান্ত। তখন সবার সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ব্যাপারে উদ্ধার হওয়া যুবক শান্তের মামা মিরাজ জানান, কিছুক্ষণ নদীরপড়ে বাঁধা অবস্থায় থাকলে জোয়ারের পানিতে ডুবে ভাগ্নে মারা যেত। পরকল্পিতভাবে শান্তকে হত্যার জন্য নদীর পাড়ে রসি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে গেছে। তবে তিনি কে বা কাহারা হত্যার জন্য নিয়েছে তা জানাননি। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য শান্তকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান। পরে তিনি ফিরে এসে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।
এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সবদিক বিবেচনা করে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের উপর ভিত্তি করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।