নিরাপত্তার স্বার্থে উভয় সংগঠনের কর্মসূচি বন্ধ
বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : ভোলা সরকারি কলেজে একই দিনে দুই ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে করে নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ কর্তৃপক্ষ উভয় সংগঠনের কর্মসূচি বন্ধ ঘোষণা করেছে। এদিকে কলেজে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখা। একই দিন ও একই স্থানে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা এবং ক্যাম্পাসে টাঙানো ছাত্রশিবিরের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তুলে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এর কিছুক্ষণ পর পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে কলেজ ছাত্রদল।
অপরদিকে একটি ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কলেজে বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ভোলা সরকারি কলেজ শাখাও এ বছর অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করার পর অনুমতি পেয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর কলেজের ছায়াবীথিতে অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করা হয়। পরে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে প্রচার চালানো হয়।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, তাদের অনুষ্ঠানের প্রচার শুরুর দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর ছাত্রদল একই দিন ও একই স্থানে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেয়। বিষয়টি সমাধানে ছাত্রদলের কলেজ ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচির সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া রাতের আঁধারে ক্যাম্পাসে টাঙানো ছাত্রশিবিরের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। অপরদিকে ছাত্রদলের আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কলেজে বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও বলেন, ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো ছাত্রসংগঠনের স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতের আধিপত্যবাদী ছাত্ররাজনীতির পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।
লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, আগামী ১৫ অক্টোবরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কলেজ প্রশাসনের অনুমতির ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন তার দেওয়া অনুমতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
একই সঙ্গে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বাধা, হামলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে বলে সতর্ক করেন ছাত্রশিবিরের নেতারা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কলেজ প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবির শাখার সভাপতি মো: আল-আমীন, সহ সভাপ্রতি ইমরান হোসেন নাবিল, সেক্রটারি কামরুল হাসান সহ কলেজ শাখার নেতৃবিন্দু।
এদিকে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিলের পর কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ভোলা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত ইফতি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হোসেন শুভ ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈম হাসানসহ অন্য নেতারা।
ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব আব্দুস সামাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে ছাত্রদল। এরই অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ভোলার শহীদ নাঈমের স্মরণে দুই দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি ছাত্রসংগঠন এই আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কলেজে বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।তারা ছাত্রশিবিরের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে।
এদিকে, ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীল জানান, একই দিনে কলেজ ক্যাম্পাসে দুটি ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি থাকায় বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে উভয় সংগঠনের কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কলেজ ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও জানানো হয়েছে।