অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ | ১১ই কার্তিক ১৪৩৩


ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে নদীতে মাছ শিকার


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:৫২

remove_red_eye

৬

প্রকাশ্যে বেচা কেনা

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে মাছধরার মহোৎসব। নদীর তীরে ও মৎস্য ঘাটে হাক ডাক দিয়ে হচ্ছে বেচা কেনা । মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পর ও থামানো যাচ্ছে না মাছধরা। এতে করে সরকারের অভিযানের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে জেলেরা বলেছেন, জীবন জীবিকার তাগিদে ,  ঋণের কিস্তির চাপে ও সরকারি সহায়তা না পাওয়া  নিরুপায় হয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর নজরদারির পাশাপাশি অসহায় জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিনে, মেঘনা নদীর তীরে মাছ ঘাট এলাকায় গেলেই দেখা মিলে একের পর এক ট্রলার তীরে ভীরছে। নৌকা থেকে মাছ নিয়ে ঘাটের বাইরে মাছ বিক্রি করছেন। আবার কোথাও মাছঘাটে প্রকাশ্যে হাকডাক দিয়ে মাছ কেনা বেচা করেছেন।  কোন কোন জেলে জাল নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে ছুটে যাচ্ছেন। অনেক জেলে নৌকা নদীতে দিনের বেলাই প্রকাশ্যে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার যেন কোন বালাই নেই। এ দৃশ্য ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল এলাকায় দেখা যায়। শুধু শিবপুর নয়, ভোলার রাজাপুর,ইলিশা,তুলাতুলি, নাসির মাঝি,কাঠির মাথাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাছধরা ও আড়তে বেচা কেনা হচ্ছে।
জেলেরা বলেছেন, তাদের অনেক জেলের ই কার্ড নেই, সরকারি সহায়তাও মেলেনি অনেকের। তাদের নেই কোন বিকল্প কর্মসংস্থান। তার ওপর এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তি। সংসারের খরচ আর ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে নদীতে যাচ্ছেন তারা। আবার কার্ড থাকার পরও চাল না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের।
অন্যদিকে যারা নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছে না। এতে তাদের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু বহু জেলে একটি চক্রের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করছে। এমনকি  টাকা নিয়ে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন জেলেরা। তাদের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধেও। 

এদিকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রচারণার পাশাপাশি নদীতে টহল দিচ্ছে কোস্টগার্ড নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ। আটক করা হচ্ছে জাল, মাছ ও জেলে; দেওয়া হচ্ছে জরিমানা ও কারাদণ্ড। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, জেলেদের প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তায় চালের বরাদ্দ কম  এবং জনবল সংকটে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে সীমিত সামর্থ্য নিয়ে। এর পরেও তাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই ।