অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ | ১১ই কার্তিক ১৪৩৩


নিষেধাজ্ঞায় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ, লালমোহনে চালের অপেক্ষায় ১৬ হাজার ৫৭৫ জেলে


লালমোহন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:২৫

remove_red_eye

৪৯

আকবর জুয়েল, লালমোহন : নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, বন্ধ আয়ের প্রধান উৎস। সংসার চালাতে ধারদেনা করতে হচ্ছে, বাড়ছে ঋণের বোঝা। এমন সংকটময় সময়ে সরকারি সহায়তার চালই ছিল জেলেদের প্রধান ভরসা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ভোলার লালমোহন উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলে এখনো বরাদ্দের চাল পাননি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তাঁদের।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এ সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা হিসেবে সরকার জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়েছে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে এসব চাল বিতরণ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের জেলেরা তা পাননি।
নদীপাড়ের জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি ও রুবেল মাঝিসহ কয়েকজন জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাঁদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ সময়ে সরকারি সহায়তার চাল দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালানোর আশা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সময়মতো চাল না পাওয়ায় ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। বাড়ছে ঋণের বোঝা। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগানো এবং এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তার চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাঁদের।
জেলেদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত হয়েও অনেকে প্রকৃত জেলে হিসেবে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া চাল বিতরণে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের। উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লালমোহনে ২৪ হাজারের বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও এবার ২১ হাজার জেলের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কালমা, রমাগঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বাকি ছয়টি ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলে এখনো বরাদ্দের চাল পাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় এবং তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে চাল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জেলেরা এখনো সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে চাল বিতরণের চেষ্টা চলছে।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ বলেন, চাল বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই জেলেদের মধ্যে বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হবে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, মৎস্য কার্যালয়কে তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ইউনিয়নে চাল বিতরণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখনো কেন চাল বিতরণ শেষ হয়নি, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত চাল বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।