অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ | ১২ই কার্তিক ১৪৩৩


চলে গেলেন ভোলার প্রগতি আন্দোলনের সজ্জন শেখ ফরিদ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১:১৮

remove_red_eye

১৪

অমিতাভ অপু  : গ্রামে বসে মুক্ত চিন্তার বিকাশে নিরলস কাজ করে যাওয়া একজন শেখ ফরিদ। বলা যায় প্রগতি আন্দোলনের প্রতীক এই মানুষটি ছায়া সুনিবির শান্তির নীড় গড়ে তোলেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুন্সিরহাট গ্রামে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেকেরমত ফরিদ শহরমুখী না হয়ে গ্রামের বাড়িটিকেই প্রাকৃতিকভাবে আধুনিক করে তোলেন। তার সংগ্রামী জীবনের সঙ্গী কবি হুমায়ারা সুরভী। দুজনই বাড়িতে গড়ে তোলেন বিশাল লাইব্রেরি। গবেষণার। পারিবারিক আঙ্গিকে গরুর খামার, কবুতরের খামার, শাকসবজির বাগান। নারিকেল বাগান। 
এমন শান্তির নীর ত্যাগ করে শেখ ফরিদ মাত্র ৫৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। রেখে গেলেন তার সংগ্রামী জীবনের আলোকবর্তিকা সুরভী ও একমাত্র পুত্রকে। আমাদেরমত এসএসসি চুরাশিয়ান এক ঝাঁক বন্ধুদের ছেড়ে শেখ ফরিদের প্রস্থান মেনে নেয়া কঠিন।
শেখ ফরিদ আজ থেকে ৩০ বছর আগে মাই রাইট নামের একটি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ওই থেকে ফরিদ হয়ে ওঠেন মাই রাইট ফরিদ নামে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ততক্ষণে না ফেরার দেশে চলে যান ফরিদ। আমাদের প্রিয় ফরিদ। উদার মনের ফরিদ। 
গেল বছর আমি গ্যাস কূপের নিউজের কাজে মুন্সিরহাটে যাচ্ছিলাম। বাগান থেকে নারিকেল ও ডাব পাড়াচ্ছিলেন শেখ ফরিদ। তা স-জোরে ডাক শুনে আমার মটর সাইকেল ধেমে যায়। যাই কোথায় ফরিদ ও সুরভীর শান্তির নীড়ে কিছু সময় কাটিয়ে ফিরতে হলো। ওই দিন ফরিদের নারিকেল বাগান ও ডাব উৎপাদন নিয়ে আরটিভিতে প্যাকেজ প্রচারিত হয়েছে। কয়েক লাখ ভিউয়ার। বহু মানুষ যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা এক সময় ফরিদকে বাড়তি সময় ও ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। এর জন্য দায়ি ছিলাম আমি। 
ফরিদের নীড়ে বসে তার মুক্তচিন্তার গবেষণা তথ্য খুঁজে পাই।
অথচ প্রচার বিহীন ফরিদ দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। এলাকায় ফরিদ শিক্ষক হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। নানা টানাপপোড়েনে নিজেদের টেনে তুলছিলেন ফরিদ ও শুরভী।
আজ দুপুর টা ১৯ মিনিট, ফরিদের ভায়রা ওবায়দুল হক মহাবিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক কামরুল হাসান হিরণ ব্যথাতুর কন্ঠে ফরিদের চলে যাওয়ার বার্তা দিলেন। তখন আমি একটি নিউজ করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ফরিদের মৃত্যু আমাকে ক্ষনিক স্থবির করে রাখে। হিসেব মিলছিল না। এ কেমন কথা। যারা কিছু দিবে। এ সমাজ৷ এ মানুষ কিছু পাবে। তারা চলে গেলে, প্রগতির কথা কে জানাবে? 
তার পরও বলবো ফরিদ , তুমি যেখানে থাকবে ভালো থেকো। 
ফরিদের স্বপ্নপুরণে
সুরভী তোমাকে কঠিন কঠোর পথ হয় তো একাকী অতিক্রম করতে হবে। তোমার দৃঢ়তা তোমাকে এগিয়ে নিবে। সৃষ্টিকর্তা ভালোর জন্যই সব করেন। এই হোক আমাদের শান্তনা।