অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২১শে অক্টোবর ২০২৬ | ৬ই কার্তিক ১৪৩৩


মানুষের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছি: শেখ হাসিনা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১শে আগস্ট ২০২১ রাত ১১:৩৮

remove_red_eye

৯৪৮

বাংলার কন্ঠ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আল্লাহ যখন বাঁচিয়ে রেখেছেন, তখন বাবার পথ ধরেই এদেশের মানুষের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছি। গ্রেনেড, বোমা, গুলি অনেক কিছুই তো চোখের সামনে এসেছে, বার বার মৃত্যুকে সামনে পেয়েছি। বার বার আমার সামনে মৃত্যু এসে দাঁড়িয়েছে, আমাদের নেতাকর্মীরা বাঁচিয়েছে, আল্লাহ বাঁচিয়েছে।

শনিবার (২১ আগস্ট) সকালে ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রান্তে যুক্ত ছিলেন। গণভবন প্রান্তে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত চার দলীয় সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে এই ঘটনা ঘটেছিল তার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছয়টা বছর আসতে পারেনি দেশে। আওয়ামী লীগ যখন সভানেত্রী নির্বাচিত করল একরকম জোর করেই দেশে ফিরলাম। আর দেশে ফিরে আসার পর থেকেই তো যখন যেখানে গেছি প্রতিটি জায়গায় তো বোমা হামলা, মঞ্চ পুড়িয়ে দেওয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। সুস্থভাবে তো কখনও রাজনীতি করতে পারিনি, ঘুরতেও পারিনি। প্রতি পদে বাধা এসেছে। সেই বাধাও অতিক্রম করে দলকে সুসংগঠিত করেই আজকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। খালেদা জিয়ার সেই দম্ভোক্তি আওয়ামী লীগ একশ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু আল্লাহর বিচার আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে বলেছিল যে, জীবনেও প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধী দলীয় নেতাও হতে পারব না। এক সময় সে নিজেই কিন্তু আর বিরোধীদলের নেতাও হতে পারেনি। এটা স্মরণ রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই হামলার ইতোমধ্যে বিচার হয়েছে। কয়েকজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। কয়েকজনের যাবজ্জীবন হয়েছে, যারা বিদেশে আছে। এদের মধ্যে দুজন হলো সালাহউদ্দিন আর হারিছ চৌধুরী। এর মধ্যে একজন ইন্ডিয়াতে, আরেকটার খোঁজ পাওয়া গেল লন্ডনে। সে নাকি করোনায় আক্রান্ত। কিন্তু এদের লোকজন বাইরে বলে বেড়ায় গুম হয়েছে। কিন্তু পরে আবার খোঁজ পাওয়া যায়। এরকম ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুভার্গ্যের।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি এইটুকুই বলব, আল্লাহ হয়তো মানুষকে একটা কাজ দেয়। আর সেই কাজটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সময় নেয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেশের স্বাধীনতা অর্জন করবেন, যুদ্ধবিধস্ত দেশ গড়ে তুলবেন। তিনি দেশটা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু তার যে স্বপ্নটা ছিল- অর্থনৈতিক মুক্তি। বাংলার মানুষকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ দেবেন। সেটা তিনি করতে পারলেন না। তার আগেই আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বাবা হারিয়েছি, মা হারিয়েছি, ভাইদের হারিয়েছি, আপনজন হারিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তো তাদের বেঁচে থাকার সব আশা-আকাঙ্ক্ষাই হারিয়ে ফেলেছিল। যে স্বাধীনতার জন্য লাখো শহীদ রক্ত দিল, এত মা-বোন ইজ্জ্বত দিল- তাদের সেই আত্মত্যাগই তো মুছে ফেলা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আবার এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘যে দেশকে জাতির পিতা স্বল্পোন্নত হিসাবে রেখে গিয়েছিলেন, সেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। করোনাভাইরাস আমাদের কিছু সময়ে জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। আমি আশা করি, এটাও আমরা উত্তরণ ঘটিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে পারব।’

বঙ্গবন্ধুর মতো দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের একমাত্র কাজ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ প্রধান। পাশাপাশি গ্রেনেড হামলায় আহতসহ দলের দুর্দিন-দুঃসময়ে কাজ করতে গিয়ে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করে অসহায় জীবনযাপন করছে তাদেরও বিভিন্ন রকম আর্থিক সহযোগিতার করে যাওয়ার অঙ্গীকার পূর্ণব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই কিন্তু এই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গড়ে উঠেছে। আর আওয়ামী লীগ আছে বলেই দু’বেলা খাবার ব্যবস্থা, বাসস্থানের ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যবস্থা, চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারছি। হয়তো আওয়ামী লীগ বাদে অন্য কোনো সরকার থাকলে কখনোই এদেশের মানুষের এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতো না। যেহেতু আমাদের আদর্শ এটা, জাতির পিতা আমাদের সেটা শিখিয়েছেন। সেই আদর্শ নিয়েই আমাদের চলতে হবে।’

শেখ হাসিনা সেই দিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ঠিক জানি না আল্লাহ কীভাবে হাতে তুলে বাঁচাল আমাকে। আমার একটা স্প্লিন্টার লাগেনি। কিন্তু আওয়াজে যে ক্ষতিটা হয়েছিল আমার ডান কানে, সে কানে শুনতে পাই না। সেই ট্রাকের উপর অনেকেই আহত হয়েছে। ট্রাকের সিঁড়িতে যারা দাঁড়িয়ে ছিল তারা আহত। আর সেদিন ট্রাকে প্রথম একটা টেবিল দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত টেবিল থাকে না। কিন্তু ওইদিন টেবিল ছিল।’

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর চরম অসহযোগিতার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সাধারণত পুলিশ এগিয়ে আসে আহতদের সাহায্য করতে, রক্ষা করতে। কিন্তু এখানে উল্টোটা দেখা গিয়েছিল। তারা আক্রমণকারীদের রক্ষা করতে, রিসকিউ করতে টিয়ার গ্যাস মেরেছিল এবং লাঠি চার্জ করেছিল। একটা সরকারের যদি সহযোগিতা না থাকে তাহলে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে না।’

সভার শুরুতে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রান্তে সভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহমদ মান্নাফী বক্তৃতা করেন। সভায় কেন্দ্রীয় নেতারাসহ মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





আওয়ামী লীগের মতো লুটপাটের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না: স্পিকার

আওয়ামী লীগের মতো লুটপাটের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না: স্পিকার

লালমোহনে ‘স্পিকার মেজর হাফিজ ফুটবল টুর্নামেন্ট'র উদ্বোধন

লালমোহনে ‘স্পিকার মেজর হাফিজ ফুটবল টুর্নামেন্ট'র উদ্বোধন

লালমোহনে নদীতে মাছ শিকারের দায়ে ৪ জেলের জেল

লালমোহনে নদীতে মাছ শিকারের দায়ে ৪ জেলের জেল

ভোলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পার্থের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ

ভোলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পার্থের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ

হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী

হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

এইচএসসি পরীক্ষার ফল হতে পারে ২৯ নভেম্বর

এইচএসসি পরীক্ষার ফল হতে পারে ২৯ নভেম্বর

মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান

মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান

একমাত্র সন্তানের স্ত্রীর অত্যাচারে লালমোহনে ঘরে থাকাই কষ্টসাধ্য বৃদ্ধ মা রোকেয়া বেগমের

একমাত্র সন্তানের স্ত্রীর অত্যাচারে লালমোহনে ঘরে থাকাই কষ্টসাধ্য বৃদ্ধ মা রোকেয়া বেগমের

আরও...